সর্বশেষ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা কি প্রশ্নের মুখে?

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এনজিও সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এনজিও সহায়তার আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে এনজিওগুলোকে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, কোনো বেসরকারি সংস্থা যদি এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়, তাহলে ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান দিতে পারবে। সাম্প্রতিক এক ব্যাংকার্স সভায় গভর্নরের এই বক্তব্য নতুন করে নৈতিকতা ও আইনি নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, যার মূল দায়িত্ব মুদ্রানীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ব্যাংক খাতের তদারকি। গণভোটের মতো একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি অবস্থানের পক্ষে পরোক্ষ হলেও সহায়তার আহ্বান জানানো কি এই সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণভোটে জনগণের স্বাধীন মতামতই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। সেখানে রাষ্ট্রীয় বা নিয়ন্ত্রক কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একটি পক্ষকে উৎসাহিত করে, তাহলে তা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগের নীতিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে এনজিওগুলোকে আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট ভোটের পক্ষে জনমত গঠনের আহ্বান গণভোটের নৈতিক মানদণ্ড নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

 

এই প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে—যে ‘জুলাই স্পিরিট’ বা জুলাই দাঙ্গার যে ‘গণআকাঙ্ক্ষার’ কথা বলা হচ্ছে, তা কি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে এখন সেটিকে টিকিয়ে রাখতে আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যস্থতায় এনজিও ও সিএসআর তহবিল ব্যবহার করতে হচ্ছে? যদি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জুলাই সনদের পক্ষে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রভাব বা আর্থিক প্রণোদনার প্রয়োজন কেন?

 

সমালোচকদের মতে, এতে করে গণভোট একটি রাজনৈতিক প্রচারণার রূপ নিতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যবহার করে নির্দিষ্ট মত চাপিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, গভর্নরের বক্তব্যের পক্ষে বলা হচ্ছে—তিনি জনসচেতনতার কথা বলেছেন, সরাসরি ভোট নির্দেশনা দেননি। তবে বাস্তবতা হলো, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান নিজেই একটি অবস্থান গ্রহণের শামিল।

 

একই বৈঠকে নির্বাচন ঘিরে নগদ লেনদেন তদারকি, কালো টাকা ঠেকানো এবং সিএসআর তহবিল ব্যবহারে সতর্কতার কথা বলা হলেও, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আর্থিক ব্যবস্থার এমন সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

 

গণভোট যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের রায় হয়, তাহলে সেটিকে নিরপেক্ষ ও চাপমুক্ত রাখাই রাষ্ট্র ও তার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান দায়িত্ব—এই প্রশ্নটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে