সর্বশেষ

জানুয়ারিতে ৭৫ সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৬১৬

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আসকের তীব্র উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০
নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আসকের তীব্র উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশের রাজনৈতিক মাঠ রূপ নিচ্ছে সংঘাত ও সহিংসতার অঙ্গনে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। এক মাসেই সারাদেশে ৭৫টি সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৬১৬ জন আহত হয়েছেন যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আসক জানায়, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে সহিংসতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৮টি ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হলেও জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫টিতে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে সহিংসতার হার অস্বাভাবিকভাবে লাফিয়ে উঠেছে।

 

সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৮টি ঘটনায় ৫ জন নিহত হলেও মাসের শেষ ১০ দিনে (২১–৩১ জানুয়ারি) ৪৯টি সংঘর্ষে ৪১৪ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হন। আসক বলছে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী সংঘাতে।

 

এ ধরনের সহিংসতা শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতাই নয়, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি বলে মনে করছে সংস্থাটি। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

 

প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের ওপর বাড়তি হামলা ও হয়রানির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ডিসেম্বরে ১১ জন সাংবাদিক হামলা বা বাধার শিকার হলেও জানুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। আসকের মতে, গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানো নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করে দেয়।

 

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা ও আতঙ্কের মধ্যে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

 

আসক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে, যাতে ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সব খবর

আরও পড়ুন

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫০

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এর উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫০

প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা

ভোট-পরবর্তী সহিংসতা বেড়েছে ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা

এবার কারা হেফাজতে গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা লিপনের রহস্যজনক মৃত্যু

৬ বার জামিন পেয়েও মুক্তি মিলেনি এবার কারা হেফাজতে গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ নেতা লিপনের রহস্যজনক মৃত্যু

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, ১৮ মাসে তদন্ত পেছালো ১১ বার

সাগর–রুনি হত্যারহস্য ১৪ বছরেও অমীমাংসিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, ১৮ মাসে তদন্ত পেছালো ১১ বার

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি

ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ, জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি

হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগে উদ্বেগ

স্বাধীন তদন্ত কমিটি চায় আসক হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগে উদ্বেগ

সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন

সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন

নির্বাচন ঘিরে ‘উদ্বিগ্ন’ ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু

নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলল সিজিএস জরিপ নির্বাচন ঘিরে ‘উদ্বিগ্ন’ ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু