বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং বিভিন্ন সহকারী হাই কমিশনে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারকে দেশে ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছে নয়াদিল্লি। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ভোটমুখী বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন ও অন্যান্য কূটনৈতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় হাই কমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় চারটি সহকারী হাই কমিশন রয়েছে। সূত্রের খবর, এসব মিশনে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে ভারতে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা; কূটনৈতিক কাজকর্ম বা দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে মনোনয়ন যাচাই, আপিল ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। যুবনেতা ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অপহরণ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ৭১ শতাংশ এবং ডাকাতি প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্যও ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনের দিকে ইট নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন এলাকায় ভিসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ওই সময় সিলেট ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করতে হয়েছিল বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে কর্মীদের পরিবার দেশে ফেরানোর পরামর্শকে ভারত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আঞ্চলিক কূটনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করছে। নয়াদিল্লির এই সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন।