সর্বশেষ

চীন দূতাবাসের বিবৃতি

ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না

কূটনীতি ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২১
ঢাকা–বেইজিং সম্পর্কে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না

ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যকে সরাসরি “দায়িত্বজ্ঞানহীন” ও “ভিত্তিহীন” আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকার চীন দূতাবাস। চীন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।

 

বৃহস্পতিবার চীন দূতাবাসের মুখপাত্র এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। বিবৃতিতে বলা হয়, গোপন উদ্দেশ্যপ্রসূত এই ধরনের বক্তব্য সঠিক ও ভুলকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে ফেলে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ইতিবাচক বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।

 

এর আগে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ছে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের “ঝুঁকি” স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই তার কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি অংশ।

 

এই বক্তব্যের জবাবে চীন দূতাবাস স্মরণ করিয়ে দেয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও চীন সব সময় পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও পারস্পরিক লাভের নীতিতে সহযোগিতা করেছে। এই সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য ও উন্নয়ন খাতে বাস্তব সুফল এনে দিয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, বরং এটি দুই দেশের জনগণের উন্নয়ন ও এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে গড়ে ওঠা একটি অংশীদারত্ব। এতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বা আঙুল তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

চীন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হতে এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানায়।

 

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের কৌশলগত প্রতিযোগিতার চাপ ক্রমেই বাংলাদেশের কূটনীতির ওপর দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে