সর্বশেষ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: কথা আছে, কাজ নেই

জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২০
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: কথা আছে, কাজ নেই

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা প্রায় বারো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এখনো কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানবিক আশ্রয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক সম্মেলন, সংলাপ ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রত্যাবাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

  

গত বছর আগস্টে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কেবল কথার জালে বন্দি থাকা যাবে না, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের ১১ দেশ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অঙ্গীকার করে। জাতিসংঘ, কাতার ও বাংলাদেশ আয়োজিত তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও প্রত্যাবাসন ও তহবিল বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনকি চলতি বছরের ঈদের আগেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু এসব আশাবাদ ও উদ্যোগ আশ্বাসের বাইরে কোনো বাস্তব ফলাফল আনতে পারেনি।  

 

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের সামাজিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত নিরাপত্তা এখন রোহিঙ্গা ইস্যুর সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বিস্তার রোহিঙ্গা শিবিরকে অপরাধচক্রের ‘সফট স্পট’ হিসেবে পরিণত করেছে। দরিদ্রতা ও কর্মসংস্থানের অভাব অনেক রোহিঙ্গা যুবককে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলছে।  

 

সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত সীমান্তে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নাফ নদে জেলেদের অপহরণ ও হত্যার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত সীমান্ত অতিক্রম করলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়তে পারে।  

 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আরাকান আর্মির জন্য করিডর তৈরির প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর সরকার সরে দাঁড়ায়। বর্তমানে প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নির্বাচিত সরকার কীভাবে এ সংকট মোকাবিলা করবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।  

 

রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ইস্যু মানবিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে