দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও আগ্রহ দেখিয়েছেন অল্প কয়েকজন। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারে থাকা মোট ৮৪ হাজার ৪০০ বন্দির মধ্যে মাত্র ৬,২৪০ জন ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাকি ৭৮ হাজার ১৬০ জন কোনো নিবন্ধন করেননি।
সরকার বন্দিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এজন্য তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো হয়, যা শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তবে প্রত্যাশার তুলনায় নিবন্ধন কম হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দিদের নিবন্ধন কম হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে-
১. অনেক বন্দি মনে করেন, তারা শিগগির জামিনে মুক্তি পাবেন, তাই নিবন্ধন করেননি।
২. পুরোনো বন্দিদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই।
৩. নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নিবন্ধনের সাড়া কম পাওয়া গেছে।
২০১৯ সাল থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বন্দিদের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হলেও এর আগে কারাগারে যাওয়া অনেক বন্দির এনআইডি তথ্য নেই। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের এনআইডি নেই তাদের জন্য নির্বাচনের পর আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিভাগের কারাগারগুলোতে সর্বাধিক বন্দি নিবন্ধন করেছেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ৯৯০ জন ভোট দিতে আবেদন করেছেন। ঢাকা বিভাগ-১ এ ১,৪০৯ জন এবং ঢাকা বিভাগ-২ এ ৯৬০ জন নিবন্ধন করেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে ১,১০১ জন, খুলনায় ৬৯০, রাজশাহীতে ৬৯৪, রংপুরে ৩০৫, বরিশালে ২৩৪, ময়মনসিংহে ১৫৮ এবং সিলেটে ৫১০ জন বন্দি নিবন্ধন করেছেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬,৫৭৩ বন্দির মধ্যে মাত্র ৩৭৮ জন নিবন্ধন করেছেন, যা শতকরা ৫.৬ শতাংশ।
কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কারাগারে ভোটের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে। বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন এবং খামগুলো ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে।
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, বন্দিদের ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তবে কাউকে জোর করে ভোট দিতে বাধ্য করা হবে না। তিনি জানান, নিবন্ধিত বন্দিদের কাছে প্রার্থী ও প্রতীকের তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে।