বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি হয়েও অন্তত ৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং অন্যান্য আইনে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশ ও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির মাধ্যমে তারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঋণখেলাপির কারণে ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এর মধ্যে ১৫ জন আপিল শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান। আবার ৩১ জন প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করেন। তবে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা আপিলে বাতিল হয়।
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার তাকে বলেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর দুজন, ইসলামী আন্দোলনের দুজন, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও এনপিপির প্রার্থীরাও রয়েছেন। এছাড়া সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
জামায়াতের যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ নির্ধারিত সময়ের পর ঋণ পরিশোধ করে খেলাপিমুক্ত হন এবং আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান। ঢাকা-২ আসনে কর্নেল (অব.) আব্দুল হকও হাইকোর্টের রায়ে বৈধতা পান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও নূরে আলম সিদ্দিকীও আপিলে টিকে গেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে ঘোষণা দিয়েছিল, কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও একই কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও এবার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন ঋণখেলাপির তথ্য গোপন না হয়। তবে আদালতের স্থগিতাদেশ ও আইনি জটিলতার কারণে অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, “এভাবে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া ভালো কিছু নয়। এতে সমস্যার সমাধান হবে না।”
সব মিলিয়ে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী। যদিও আইন অনুযায়ী তাদের প্রার্থিতা বৈধ নয়, আদালতের স্থগিতাদেশ ও আপিল শুনানির মাধ্যমে তারা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় টিকে গেছেন। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।