সর্বশেষ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোরতার নির্দেশ

১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচিতে অটল আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩০
১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচিতে অটল আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে, আর সরকার পক্ষ থেকেও কঠোর অবস্থান জানানো হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে আওয়ামী লীগের রাজপথের কর্মসূচি, অন্যদিকে সরকারের কড়া নজরদারি মিলিয়ে রাজনীতি নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।

 

বুধবার গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মসূচি প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে। জামিনে মুক্ত পাওয়া নেতাকর্মীরা যদি কোনো অপরাধে জড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, জনগণ ‘নির্বাচনমুখী’ হয়ে গেছে এবং চাইলেও কেউ আর নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে পার্শ্ববর্তী দেশের প্রচারিত সংবাদকে ‘গুজব ও অপপ্রচার’ দাবী করে মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেন।

 

 

এদিকে ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের ‘নিষেধাজ্ঞা’ অমান্য করে কেউ সভা-সমাবেশ, ঝটিকা মিছিল বা কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রদর্শন করার চেষ্টা করলে আইনের ফুল ফোর্স প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, সরকার কাউকেই এক ইঞ্চি ছাড় দেবে না, প্রয়োজনে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি আওয়ামী লীগের ডাকে সাধারণ নাগরিক যারা রাস্তায় নামবে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন তিনি।

 

এই কঠোর সরকারি অবস্থানের মধ্যেই আওয়ামী লীগ ঘোষণা করেছে চার দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় পালন করা হবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লকডাউন কর্মসূচি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শপিংমল, অফিস-আদালত, যানবাহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ জনসম্পৃক্ত আন্দোলনই হবে এ দিনের মূল উদ্দেশ্য। তাদের দাবি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আইসিটি আদালত বন্ধ করতে হবে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।

 

 

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ঘোষণা দিয়েছেন, ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থাকবে “জয় বাংলার দখলে”। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার ক্ষতি হলে সারা বাংলায় আগুন জ্বলবে। আওয়ামী লীগ এবার অবরোধ বা ধর্মঘট নয়, বরং “লকডাউন” শব্দটি ব্যবহার করছে। তাদের ব্যাখ্যায়, করোনা মহামারির সময় যেমন ঘরে থাকার নির্দেশ ছিল, এবারও সেই পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন সাধারণ মানুষ। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হবে জনগণকে ঘরে রাখা এবং শহরকে থামিয়ে দেওয়া।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর এটিই হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সংগঠিত রাজনৈতিক প্রদর্শন। সফল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়বে এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। আর সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেকোনো ধরনের রাজপথের প্রদর্শন বন্ধ করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে তারা। ফলে ১০-১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতির পালাবদলের এই মুহূর্তে একদিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর মনোভাব, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণা মিলিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থান এখন মুখোমুখি। দেশের মানুষ অপেক্ষায়, এই লকডাউন আহ্বান ও সরকারের কঠোর অবস্থানের পরবর্তী অধ্যায় কোনদিকে গড়িয়ে যায়।

সব খবর

আরও পড়ুন

গানম্যান নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা

সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কাতর্কি গানম্যান নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা

চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে জামায়াত আমিরের বিস্ফোরক মন্তব্য

জিয়া নন, অলি স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক চট্টগ্রামে ১১ দলীয় সমাবেশে জামায়াত আমিরের বিস্ফোরক মন্তব্য

“অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, বাংলাদেশ এখন উগ্রপন্থী প্রভাব ও বিদেশি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে”

কলকাতায় বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় “অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়, বাংলাদেশ এখন উগ্রপন্থী প্রভাব ও বিদেশি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে”

ভোট কেনার পরিকল্পনায় বিএনপি–জামায়াতের তৎপরতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

রাজধানীর বস্তিতে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ ভোট কেনার পরিকল্পনায় বিএনপি–জামায়াতের তৎপরতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের পথে নিতে চায়

নিজ নির্বাচনী সভায় মির্জা ফখরুল জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের পথে নিতে চায়

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ

সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ

বড় বড় দলের অনুপস্থিতি, সীমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রার্থী সংকটে প্রশ্নের মুখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

অন্তর্ভুক্তিমূলক তো নয়, অংশগ্রহণমূলকও কি আদৌ হচ্ছে? বড় বড় দলের অনুপস্থিতি, সীমিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রার্থী সংকটে প্রশ্নের মুখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা: বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ

নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা: বাড়ছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ