সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো কাঠামো কার্যকর হলে অতিরিক্ত ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। বর্তমানে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের খরচ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এই বাড়তি ব্যয়ের চাপ মূলত পরবর্তী সরকারকেই নিতে হবে।
আজ বুধবার বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিবও উপস্থিত থাকবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর মাত্র ২০ দিন থাকায় নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা—এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন হয় না। কয়েকটি কমিটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে, যা শেষ করতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। তাই বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করবে না—এমন কথা তিনি বলেননি, তবে প্রতিবেদন দিয়ে যাওয়া বড় বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।
সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন বেতন বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ ধাপে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বাস্তবায়ন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে পুরো কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এটি আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে পুরো কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পান। সামরিক বাহিনী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ।
অর্থ উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কাঠামোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট হবেন। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক সামর্থ্য, সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত সুপারিশ করা হয়েছে। বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি করনীতি-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেবে গবেষণা সংস্থা পিআরআই। ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন অনেকাংশে ওই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।