দেশে চারটি নতুন থানা স্থাপন এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত নিকারের ১১৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা।
সভায় মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো ও নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সভায় গাজীপুর জেলার পূর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলার পূর্বাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়ীতে নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এছাড়া নরসিংদী জেলার রায়পুরাকে ভেঙে একটি নতুন থানা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব থানার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাবও সভায় অনুমোদিত হয়েছে। পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে সাতক্ষীরাকে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
সভায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে। নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ ও গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ— ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’— একত্র করে পুনর্গঠন করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। নতুন বিভাগগুলো রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ঠাকুরগাঁও জেলার ‘ভূল্লী’ থানার নামের বানান সংশোধনের প্রস্তাবও সভায় অনুমোদিত হয়।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের ১৪ জন সচিব বা জ্যেষ্ঠ সচিব উপস্থিত ছিলেন।
নিকারের এই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রশাসনিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।