সর্বশেষ

বছরে দু’ইঞ্চি সরছে বাংলাদেশের ভূমি

মিয়ানমারের প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে বাড়ছে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকি

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:১৭
মিয়ানমারের প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষে বাড়ছে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার ভূতাত্ত্বিক সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চাপ জমতে থাকায় ভবিষ্যতে অতি তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক মাইকেল স্টেকলার এবং তাঁর গবেষক দল। বাংলাদেশে গত শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু ও শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত নন। তাদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানই এই দুর্যোগের মূল কারণ এবং ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

 

২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে গবেষণা চালিয়ে আসছেন স্টেকলার ও তাঁর সহযোগীরা। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী জিপিএস যন্ত্র স্থাপন করে ভূত্বকের সূক্ষ্ম গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ভূমি প্রতি বছর প্রায় দুই ইঞ্চি হারে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে এবং মিয়ানমারের নীচের ভূত্বকের সঙ্গে ধীরে ধীরে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এই সংঘর্ষের ফলে মাটির গভীরে বিপুল চাপ জমা হচ্ছে, যা কোনো একসময় হঠাৎ মুক্ত হলে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে।

 

গবেষকদের ভাষ্যমতে, গত চারশো বছরে বাংলাদেশে অতি তীব্র কোনো ভূমিকম্প হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভে চাপ বেড়ে চলেছে। কখন এই চাপ হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না—কয়েক বছরের মধ্যেও হতে পারে, আবার কয়েকশো বছরও লাগতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস অঞ্চল প্রায় ১৫০ মাইল দীর্ঘ, যার মধ্যে ঢাকাও অন্তর্ভুক্ত।

 

বাংলাদেশের মাটির গঠনও ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা পলিমাটি অত্যন্ত নরম ও আলগা, যা ভূমিকম্পের সময় কম্পনের মাত্রাকে আরও বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার একটি বড় সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন। বহু বহুতল ভবনে নির্মাণবিধি মানা হয়নি; অনেক এলাকা ভঙ্গুর মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। স্টেকলার রসিকভাবে তুলনা করেছেন—“ঢাকা যেন জেলির বাটির ওপর দাঁড়ানো একটি শহর।”

 

শুক্রবারের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল নরসিংদীর পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৪ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার কম্পনে ঢাকার একটি বহুতলের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেওয়ালধসে আরও ৭ জন প্রাণ হারান। বিজ্ঞানীদের মতে, বৃহত্তর এক ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়বে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে