হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। জ্ঞান, বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলো ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে পূজাঙ্গনগুলো।
শাস্ত্রমতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনটিই বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এ দিন থেকেই ঋতুরাজ বসন্তের আবির্ভাব ঘটে এবং এই তিথিতেই দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব হয়েছিল।
দৃকপঞ্জিকা অনুসারে, ২২ জানুয়ারি রাত ২টা ২৯ মিনিটে পঞ্চমী তিথি শুরু হয়ে ২৩ জানুয়ারি রাত ১টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। উদয়া তিথি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবারই বসন্ত পঞ্চমী ও সরস্বতীপূজা পালনের প্রধান দিন। বেণীমাধব শীলের গার্হস্থ্য পঞ্জিকাতেও ২৩ জানুয়ারি পূজার নির্দেশ রয়েছে।
সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্রবসনা, এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা ধারণ করেন বলে তাঁকে বীণাপাণি বলা হয়। এই দিনে দেবীর পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, কলম ও বাদ্যযন্ত্রেরও পূজা করা হয়। অনেক পরিবারে শিশুদের হাতেখড়ি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং বিদ্যাচর্চার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে প্রতিবছর বড় পরিসরে সরস্বতীপূজা উদ্যাপন করা হয়। হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের একাধিক মণ্ডপে সকাল থেকেই পূজা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী-শিক্ষক ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্তদের ভিড় থাকে এদিন জগন্নাথ হলে।
বসন্ত পঞ্চমীর এই দিনে বিদ্যার দেবীর কৃপা প্রার্থনায় দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে প্রত্যাশা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের।