সর্বশেষ

রায় কার্যকরের প্রশ্নে সন্দেহ

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত বাচ্চু রাজাকারের আত্মসমর্পণের আবেদন

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৭
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত বাচ্চু রাজাকারের আত্মসমর্পণের আবেদন

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন। বুধবার তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় সশরীরে হাজির হয়ে আবেদন দাখিল করেন। তবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক শুনানি হয়নি।

 

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফিরে তিনি সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকার তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে, যার মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

ফরিদপুরের রাজাকার হিসেবে পরিচিত বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে বিচার শুরু হয়। তিনি ২০১২ সালে হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং অনুপস্থিত অবস্থাতেই ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রায়ে তার বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

 

মুক্তিযুদ্ধকালে ফরিদপুর অঞ্চলে রাজাকার ও পরে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবুল কালাম আজাদ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে তিনি বহু গণহত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ রয়েছে।

 

দীর্ঘ ১১ বছর পলাতক থাকার পর তার আত্মসমর্পণের আবেদন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, আইনগতভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা বা সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং এটি সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনার পুনরুত্থান নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই মামলার পরিণতি ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কি একজন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন? আপাতত বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ট্রাইব্যুনালের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে