দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশে–বিদেশে কর্মরত ১৩৫ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলোকে কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে একপাক্ষিক নির্বাচন আয়োজন গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী এবং এমন নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকেরা বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি প্রগতিশীল দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে না। ব্যালটে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর পছন্দের প্রতীক অনুপস্থিত থাকলে সেই নির্বাচন গণতান্ত্রিক বৈধতা হারাবে এবং দেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে একপাক্ষিক নির্বাচন কখনো স্থিতিশীলতা আনে না; বরং জাতীয় জীবনে বিভক্তি ও অস্থিরতা বাড়ায়। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয় করে এমন নির্বাচন আয়োজনকে তাঁরা ‘অপচয়’ আখ্যা দিয়েছেন।
সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের অঙ্গীকার থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, সরকারসমর্থিত দলগুলোর পক্ষে সক্রিয়তা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের প্রভাবমুক্ত নয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এ পরিস্থিতিতে তাঁরা বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করে সব রাজনৈতিক দল ও মতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। জাতীয় ঐক্য, সংলাপ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক তৈমুর ফারুক তুষার বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মোল্লা জালাল, সৈয়দ বদরুল হাসান, ফরিদা ইয়াসমিন, মনজুরুল ইসলাম, শাবান মাহমুদ, আবু জাফর সূর্য, সোহেল হায়দার চৌধুরী, সৈয়দ বোরহান কবীর, ফজলুল বারী, মাসুদা ভাট্টি, মানিক লাল ঘোষ, খায়রুল আলমসহ আরও অনেকে।
সাংবাদিকদের মতে, একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই কেবল দেশকে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।