অমর একুশে বইমেলার সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু করার যে সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিয়েছে, তা আরও পিছিয়ে রোজার ঈদের পর আয়োজন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
সমিতির সভাপতি বরাবর গত ১৯ জানুয়ারি ২৬২ জন প্রকাশক এক যৌথ চিঠিতে বইমেলার সময় পুনর্নির্ধারণের আবেদন করেন। পরে সেই প্রস্তাব বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মাধ্যমে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়।
প্রকাশকরা বলছেন, নির্বাচনের পরপরই বইমেলা শুরু হলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিদ্যমান বাস্তবতায় বই ছাপানো, বিপণন ও পাঠকসংযোগ—সবকিছুই বড় ধরনের চাপে পড়বে।
তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ও বাংলা একাডেমির সচিব সেলিম রেজা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।”
ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে এবং প্রায় ২৫ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।
কিন্তু প্রকাশকদের বড় অংশ মনে করছেন, বাস্তবতা অনুকূলে নেই। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন বলেন, “এখন বাস্তবতা হলো বেশিরভাগ ছাপাখানা নির্বাচনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রে বই ছাপানোর জন্য শিডিউলই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকাশকদের যে যত্ন নিয়ে বই প্রকাশ করার কথা, তার অবকাশ নেই।”
তিনি আরও বলেন, রমজানের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং রোজার সময় পাঠকদের বই কেনার আগ্রহ কতটা থাকবে, তা অনিশ্চিত।
আদর্শ প্রকাশনীর প্রধান নির্বাহী মাহাবুব রহমান বলেন, “যখন অধিকাংশ প্রকাশক মনে করছেন ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়, তখন বাংলা একাডেমির উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা।”
এর আগে নির্বাচনের কারণে প্রথমে ডিসেম্বরে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করার পর বাংলা একাডেমি ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত জানায়।
এখন প্রকাশকদের দাবি, নির্বাচন ও রমজান পরবর্তী সময়ে—ঈদের পর বইমেলা আয়োজনই হবে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সিদ্ধান্ত।