সর্বশেষ

চুক্তির মেয়াদ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

এবার জানুয়ারিতে বিদেশিদের হাতে পানগাঁও টার্মিনাল

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৩৮
এবার জানুয়ারিতে বিদেশিদের হাতে পানগাঁও টার্মিনাল

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর অবশেষে সচল হতে যাচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি)। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) জানিয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসির লজিস্টিক শাখা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ২২ বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পরিচালনার পাশাপাশি প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

 

২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪ একর জমিতে পানগাঁও আইসিটি নির্মিত হয়। বছরে অন্তত দুই লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা থাকলেও নৌপথে পর্যাপ্ত জাহাজের অভাব, অপারেটর সংকট ও ব্যবস্থাপনার জটিলতায় টার্মিনালটি কাঙ্ক্ষিতভাবে চালু করা যায়নি। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনারের প্রায় ৯৪ শতাংশ সড়কপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম পরিবহন হচ্ছে, নৌপথে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ।

 

চুক্তি অনুযায়ী, মেডলগ আধুনিক মোবাইল হারবার ক্রেন, উন্নত হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট, নিজস্ব বিশেষায়িত জাহাজ ও বার্জ নামাবে। পাশাপাশি ১০ হাজার বর্গমিটার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন, কটন ওয়্যারহাউস নির্মাণ এবং পুরো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। সরকার ইতোমধ্যে সাইনিং মানি হিসেবে পেয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিবছর নির্দিষ্ট ফি ও প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে রাজস্ব পাবে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে বড় বিনিয়োগ আসে না। তাই পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের আদলে পানগাঁওয়েও ২২ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুকের মতে, পানগাঁও পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে সড়কপথের চাপ কমবে এবং কম খরচে নৌপথে আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।

 

তবে এই চুক্তি ঘিরে প্রশ্নও উঠেছে। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ৩০ বছরের জন্য ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এবং পানগাঁও ২২ বছরের জন্য মেডলগের হাতে দেওয়ায় সমালোচনা করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ। তাঁদের প্রশ্ন, স্বল্পমেয়াদি দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার এত দীর্ঘ ও স্পর্শকাতর চুক্তি কেন করলো এবং চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন।

 

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা তৈরি হলে জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হবে। যদিও সরকারের দাবি, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হয়েছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

আজ ঈদুল ফিতর আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

গ্যাস খাতে মার্কিন প্রভাব বাড়ছে এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি

১৮০ দিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

ভারতের আধার কার্ডের আদলে দেশে আসতে পারে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’

ভারতের আধার কার্ডের আদলে দেশে আসতে পারে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’

সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারিনি

গোলটেবিল বৈঠকে ফরিদা আখতার সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারিনি

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের নামে দুর্নীতি উপদেষ্টা ফারুকীর

মানবজমিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের নামে দুর্নীতি উপদেষ্টা ফারুকীর

বিকল্প উৎসের খোঁজে মরিয়া সরকার

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বিকল্প উৎসের খোঁজে মরিয়া সরকার