সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে দেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৪৯০ জন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটিই দেশের ইতিহাসে সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যুর বছর। আট বছর আগে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় যেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৩৫ জন, সেখানে সময়ের ব্যবধানে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবহন খাত সংস্কারের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সড়ক আইন পাস হলেও পরবর্তী সময়ে এর কার্যকর প্রয়োগ হয়নি। বরং আইন সংশোধনের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তির মাত্রা শিথিল করা হয়। টাস্কফোর্সের অধিকাংশ সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে সড়কে মৃত্যু হয় ৪ হাজার ১৩৮ জনের, ২০২০ সালে ৩ হাজার ৯১৮ জন, ২০২১ সালে ৫ হাজার ৮৪ জন, ২০২২ সালে ৪ হাজার ৬৩৬ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ২৪ জন এবং ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৮০ জন। ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতা সড়ক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাই স্পষ্ট করছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। তার মতে, পরিবহন মালিকদের প্রভাব, জবাবদিহিতার অভাব এবং অব্যবস্থাপনার সংস্কৃতি সড়কে মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছে।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈজ্ঞানিক রিকশা এবং দুর্বল নজরদারি একই রয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ন্যূনতম কাঠামোগত সংস্কারও করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চিহ্নিত ১৩টি কারণের মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ওভারলোড, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি। সরকারি উদ্যোগের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব এখনো সীমিত।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন একসময় সরকারের পতনের বীজ বপন করেছিল, সেই আন্দোলনের নেতারা ও সংগঠকেরা আজ কোথায়? হাজার হাজার প্রাণ হারানোর পরও কেন সেই আন্দোলন এখন নীরব, নিস্তব্ধ? নিরাপদ সড়ক চাই স্লোগান কি কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল?