প্রায় দেড় বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর অবশেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) পুনর্গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। পাশাপাশি চারজন কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত চার কমিশনারের মধ্যে দুজন গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য—মো. নূর খান ও নাবিলা ইদ্রিস। বাকি দুজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীও অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম–সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস কিছুদিন পূর্বেই ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সমালোচিত হোন। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিয়াউলকে হুমকিও দেন নাবিলা।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নভেম্বরে তৎকালীন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করলে মানবাধিকার কমিশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় মানবাধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি নিষ্ক্রিয় থাকায় নাগরিক সমাজ ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়। সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এই নিয়োগ হওয়ায় সময় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৫৩ সালের ৯ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ১৯৮২ সালে বিসিএস (জুডিশিয়াল) ক্যাডারে যোগ দেন। জেলা ও দায়রা বিচারক থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০০৬ সালে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে অবসর নেন।
তার বিচারিক জীবনে বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল, নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা, মানবদেহের অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত রায়সহ বেশ কিছু আলোচিত মামলার রায় রয়েছে।
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর কমিশন কতটা স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।