রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, রাস্তাঘাটে মশার দঙ্গল আক্রমণ করছে মানুষকে। মশারি, কয়েল কিংবা ব্যাট—কোনো কিছুতেই যেন কাজ হচ্ছে না। নাগরিকদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ফগিং ও ওষুধ ছিটানো কার্যক্রমও অনেকদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মশার সংখ্যা জায়গাভেদে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশই কিউলেক্স মশা, যা ফাইলেরিয়া ও জাপানি এনকেফালাইটিসের মতো রোগ ছড়াতে পারে। এছাড়া এইডিস ও অ্যানোফিলিস মশা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গবেষকেরা বলছেন, এবার শীতের মাত্রা কম ছিল এবং স্বাভাবিক সময়ের আগেই বিদায় নিয়েছে। ফলে মশার জীবনচক্র দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি জলাশয়, খাল ও নর্দমার দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবও মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগে শুধু রাতে মশার যন্ত্রণা ছিল, এখন দিনের বেলাতেও মশার কামড় সহ্য করতে হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে অভিভাবকেরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইড কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; দরকার পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সচেতনতা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মশার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রচণ্ড গরম বা কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।