পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাঙামাটি আসন থেকে নির্বাচিত এমপি দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী করা হলেও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চট্টগ্রাম–৫ আসনের এমপি মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। পাহাড়ি নেতাদের মতে, শান্তি চুক্তির ধারার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, পার্বত্য জনগোষ্ঠীর বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে, যা যথাযথ হয়নি। তাঁর মতে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা ন্যায়সংগত। তিনি আরও বলেন, দেশের নতুন প্রেক্ষাপটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অনেক আশা–আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সমতলে বসবাসরত ২০ লাখের বেশি আদিবাসীর উন্নয়নে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমতল আদিবাসীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা রাখার প্রস্তাবও দেন তিনি।
অ্যাডভোকেট দ্বীননাথ তংচংগ্যা বলেন, পার্বত্য চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে। অতীতে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো একজন পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিল। এবার প্রথমবারের মতো একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির ধারায় পূর্ণমন্ত্রী অবশ্যই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হওয়ার কথা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করলে শান্তি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। তাই তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব দেওয়া জরুরি।
সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছাড়া প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ শান্তি চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করেন, নতুন সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন ও শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রীও পাহাড়ি সম্প্রদায় থেকে আসা উচিত।