ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রচারণার শুরু থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ শেরপুরে জামায়াতের স্থানীয় নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকায় শিবিরের বিক্ষোভ, জামায়াত ও এনসিপির মিছিল এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বুধবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন জামায়াত ও এনসিপি রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে শেরপুরের ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির হামলায় তাঁদের নেতা নিহত হয়েছেন দাবি করে বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেবেন। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য না করলেও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, নতুন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসানো যাবে না। ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি রেজাউল করীম অভিযোগ করেছেন, জামায়াত জোটের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে অন্য দলগুলোকে ব্যবহার করতে চাইছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও অভিযোগ করেছেন, সরকার, এনসিপি ও জামায়াত মিলে এখন একটি সরকারি দলে পরিণত হয়েছে।
সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। মানবাধিকার সংস্থা আসক জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় চারজন নিহত ও ২৬৮ জন আহত হয়েছেন। জানুয়ারিতেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের দাঙ্গার সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখন রাজনৈতিক সংঘাতে ব্যবহার হচ্ছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ৫ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হলেও এখনো এক হাজারের বেশি প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে এসএমজি, অ্যাসল্ট রাইফেল ও স্নাইপার রাইফেল রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবাহও বেড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য তৃণমূলে সংঘাত বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা এত দিন অস্ত্র মজুদ করে রেখেছিল, এখন তা ব্যবহার করছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, প্রার্থীদেরও উচিত স্থানীয় অস্ত্রধারীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
পুলিশ সদর দপ্তরে ‘জয়েন্ট কোর্ডিনেশন সেল’ গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা মনিটর করা হচ্ছে এবং টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে মূল শক্তি। কোনো কর্মকর্তা বা বাহিনী দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে যুক্ত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।