ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব যুক্ত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। সংগঠন দুটি বলেছে, এই পদক্ষেপ একাত্তরের শহীদদের স্মৃতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা করে।
বৃহস্পতিবার পৃথক বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা না জানিয়ে সংসদে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জাতির ইতিহাসের প্রতি অসম্মান। তাদের মতে, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। সেই ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খাটো করে। সংগঠনটি এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়।
সংসদের ওই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী এবং নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী–এর নাম যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী–এর নামও শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট–এর সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ এবং সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের ঘটনা দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের গণসংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠা গণচেতনাকে পদদলিত করার এক কলঙ্কজনক নজির।
তারা বলেন, স্বাধীনতার পর গত কয়েক দশকে এ দেশে গণআন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে মূল্যবোধ তৈরি হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সেই চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংগঠনটি অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের শোকপ্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম ‘এক্সপাঞ্জ’ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।