ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিন করে দল থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে না আনলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি দলটির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তারই প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণের কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ধাক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি দাবি করেন, তার পুষ্পস্তবকও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তিনি কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
ঘটনার সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ করেন রুমিন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়।
রুমিন বলেন, দীর্ঘদিন চাপে থাকা বিএনপির কিছু নেতাকর্মী এখন রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাইছেন। বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনিটর করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এ হামলাটি পরিকল্পিত। তাদের পরাজয় মেনে নেওয়ার কষ্ট আছে। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছি। তারা কোটি কোটি টাকার লেনদেন করেও জিততে পারেননি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।