ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে এবার মাঠপর্যায়ে প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী যুবলীগ। এতদিন অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলেও গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে লিফলেট বিতরণ, দেয়াললিখন ও পোস্টারিং কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ্যে নির্বাচন বর্জনের ডাক দিচ্ছে সংগঠন দুটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে বরগুনা পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ করা হয়। শহরের নাথ পট্টি লেকপাড়ের শেখ রাসেল স্কয়ার, প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ ও বাজার এলাকায় এসব লিফলেট ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ছবিতে দেখা গেছে, ছাত্রলীগের বরগুনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি সবুজ মোল্লার নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা রাস্তায় ও দেয়ালে সাঁটানো অবস্থায় লিফলেট দেখতে পান। লিফলেটে লেখা ছিল, “প্রতারণা, প্রহসন, ফাঁকি ও ফাঁদের ভোট বয়কট করুন” এবং “প্রহসনের নির্বাচনে ভোট দিবেন না—No Boat, No Vote।”

বরগুনা সদর থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এসব লিফলেট বিতরণ করেছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সংগঠনের সব ইউনিটকে ২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ, দেয়াললিখন ও পোস্টারিং জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছে। ছাত্রলীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রহসন ও জনগণের অংশগ্রহণবিহীন সমঝোতার নির্বাচন বর্জন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায়ই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, যানবাহন, অফিস-আদালত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় এই প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে কবিতা, গান ও সাংস্কৃতিক ভাষায় ভোট বর্জনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী যুবলীগও। ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, “প্রতারণা ও প্রহসনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া একতরফা নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে জনগণ।” নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ, দেয়াললিখন ও পোস্টারিং শুরু হয়েছে।
যুবলীগের বিবৃতিতে বলা হয়, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, কলকারখানা, অফিস-আদালত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এই প্রতিবাদী প্রচারণা চলবে। জেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সব ইউনিটকে জরুরি ভিত্তিতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুবলীগ ঘোষিত স্লোগানের মধ্যে রয়েছে— “কিসের হ্যাঁ কিসের না, ভোট দিতেই যাব না”, “নৌকা ছাড়া কিসের ভোট”, “প্রহসনের নির্বাচন, বয়কট করবে জনগণ”।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রকাশ্য কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কার্যক্রম নজরদারিতে রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন বর্জনের দাবিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মাঠপর্যায়ের এই সংগঠিত প্রচারণা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।