জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতেই রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহের হিড়িক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী–পরিচয়ে আসা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব ব্যক্তিগত তথ্য নিচ্ছেন, যা অনেকের কাছে সম্ভাব্য ভোট কেনা বা প্রভাবিত করার কৌশল বলে মনে হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে ভাসানটেক, কাফরুল, মিরপুর, কড়াইল, মহাখালী সাততলা ও তেজগাঁও এলাকার অন্তত ৫০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা ভোটারদের এনআইডি কার্ডের ছবি তুলছেন এবং মোবাইল ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধও করা হচ্ছে।
ভাসানটেকের বাসিন্দা রুবিনা বেগম বলেন, দুই ব্যক্তি তার আইডি কার্ডের ছবি তুলে নিয়ে যান। একই এলাকার রাহেলা বেগম জানান, জামায়াত ও বিএনপি—দুই দলের পরিচয়ে আলাদা আলাদা দল তার কার্ডের ছবি নিয়েছে। অন্যদিকে মুন্নি বেগম অভিযোগ করেন, তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য জানতে চাইলে কর্মীরা সদুত্তর দিতে পারেননি; পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে।
ভাসানটেক থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিরা ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছে, তবে তাদের কাছে নির্বাচন কমিশনের কোনো অনুমতিপত্র ছিল না। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন দাবি করেন, জামায়াত কর্মীরা এমন কাজ করতে গিয়ে কয়েকবার জনরোষের মুখে পড়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতার প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এনআইডি ও মোবাইল তথ্য সংগ্রহ ভবিষ্যতে নগদ অর্থ, অনুদান বা প্রলোভনের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার পথ তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গোপনীয়তার অধিকারের জন্য হুমকি।
এদিকে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা প্রলোভন দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মানবাধিকারকর্মীরা দ্রুত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।