ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময় গঠিত এই জোট আগামীতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে অটুট রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। উপস্থিত ছিলেন শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা।
জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, নির্বাচনের পরদিন গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে আরপিও অনুযায়ী অনেক আসনে ভোট পুনঃগণনার সুযোগ থেকে প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ অবস্থায় ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের মতো অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রতিকার পেতে হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে ৩০টিরও বেশি আসনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনী ঐক্য কেবল ভোটের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সংসদ ও সংসদের বাইরেও এই ১১ দল একসঙ্গে কাজ করবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি জোটগতভাবে পালন করা হবে।
এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০টি আসন রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে বণ্টন হবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’-কে জয়যুক্ত করায় এখানে কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
নির্বাচনের আগে ও পরে নারী কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে জোট। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আঁতাত না করে জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।