জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট ভেস্তে যাওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামেও পরিচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে জামায়াতের নেতারা ইসলামী আন্দোলনকে উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী হিসেবে বিদেশি শক্তির কাছে উপস্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বিএম কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ইসলামী আন্দোলনকে কেন উগ্রবাদী বলা হয় তা তিনি বুঝতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন এমন কোনো আচরণ করে না যা ইসলামের নীতি ও শালীনতার পরিপন্থি। এ সময় তিনি জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনাও করেন এবং বলেন, “জামায়াত আমির মেয়েদেরকে পাশে বসিয়ে সেলফি তোলেন। বেপর্দা মেয়েদের পাশে বসিয়ে সেলফি তোলা এগুলো ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিতে সম্ভব নয়।”
জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে উদ্দেশ করে রেজাউল করীম বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কেউই বিদেশি চাপ সত্ত্বেও কখনো দেশের ভেতরে জঙ্গিবাদ আছে বলে স্বীকার করেনি। অথচ ইসলামের নাম ব্যবহার করে এমন বক্তব্য দেওয়া ইসলামের জন্যই অপমানজনক।
চরমোনাই পীর বলেন, প্রায় ৩৮ বছর ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতি করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে দলটির কোনো কর্মকাণ্ডে উগ্রতা বা জঙ্গিবাদের প্রমাণ নেই। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সংখ্যালঘুদের জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছে।
প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে শুরুতে যুক্ত থাকলেও গত ১৬ জানুয়ারি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জোট ছাড়ার কারণ হিসেবে ‘ইনসাফের অভাব’ ও ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতি’র কথা উল্লেখ করে।
জনসভায় নিজেদের প্রার্থী মুহাম্মদ ফজলুল করিম শাহারিয়ার পক্ষে হাতপাখা প্রতীকে ভোট চান ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, ইসলামী নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের কাছে ইসলামের পক্ষের প্রতীক হিসেবে হাতপাখা নিয়ে হাজির হয়েছে।