সর্বশেষ

প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ বাতিলে উদীচীর তীব্র প্রতিবাদ

প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৩০
প্রাথমিকে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ বাতিলে উদীচীর তীব্র প্রতিবাদ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তন করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিল করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার সামিল।

 

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে উদীচীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের হুমকি ও চাপের মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের “নতজানু ও পরাজিত চরিত্র” প্রকাশ করেছে, যা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত অশুভ সংকেত।

 

“সংস্কৃতি বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্বকেই অস্বীকার”

 

উদীচী বলছে, কোমলমতি শিশুদের শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখা আধুনিক, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনের অন্যতম শর্ত। সুকুমারবৃত্তি বিকাশের মাধ্যমে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে সংস্কৃতিকর্মীরা পাঠ্যক্রমে শিল্পকলা, সংগীত, সাহিত্যসহ সাংস্কৃতিক বিষয় যুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ “শিশু-কিশোরদের রুচি, মনন, কল্পনা ও চরিত্র গঠনে সংগীত-শিল্প-সাহিত্যের বিকল্প নেই।”
 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি ছিল “সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলনের বড় অর্জন” — যা সরকার বাতিল করে “ন্যাক্কারজনক নজির” স্থাপন করেছে।

 

“ধর্মাশ্রয়ী উগ্রবাদী চাপ দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে”

 

উদীচীর অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে অতীতেও শিক্ষা-সংস্কৃতি খাতে অপসারণ ও পরিবর্তন করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তচিন্তার লেখক ও রচনাবলি বাদ দেওয়া তার বড় উদাহরণ।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী ভাবাদর্শ পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু আজ ধর্মের নামে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম হচ্ছে। বিভক্তিবাদী, ঘৃণাবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি রাষ্ট্রের নীতিতে প্রবেশ করেছে, যারা সংগীত-শিল্প-সাহিত্যের বিরুদ্ধে কুঠারহস্ত।”

 

সরকারকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

 

উদীচী স্পষ্টভাবে বলেছে, যে ভাবাদর্শ মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরাজিত হয়েছিল তা এ দেশের শিক্ষা বা রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হতে পারে না। ধর্মের নামে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাত জনগণ মেনে নেবে না।
 

বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়।

সব খবর

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগের করা হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে সরকার

সরকারের অদক্ষতায় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে আওয়ামী লীগের করা হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে সরকার

বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে ১২ লাখ মানুষ, নতুন করে দরিদ্র হবেন প্রায় ১৪ লাখ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে ১২ লাখ মানুষ, নতুন করে দরিদ্র হবেন প্রায় ১৪ লাখ

ইউনূস-নূরজাহানের জবাবদিহিতা ও বিচারের দাবিতে তীব্র জনমত

টিকাদানে অবহেলায় শিশু মৃত্যুতে ক্ষোভ ইউনূস-নূরজাহানের জবাবদিহিতা ও বিচারের দাবিতে তীব্র জনমত

উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি?

বাংলাদেশে পেট্রোল-অকটেন সংকট উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি?

নতুন দামে আরও চাপে মধ্যবিত্ত

এলপিজির দামে বড় লাফ নতুন দামে আরও চাপে মধ্যবিত্ত

ব্যবসায়ীদের রাত ৮টার সিদ্ধান্তের পর সরকার নির্ধারণ করল সন্ধ্যা ৬টা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাটের সময়সীমা আরও কমলো ব্যবসায়ীদের রাত ৮টার সিদ্ধান্তের পর সরকার নির্ধারণ করল সন্ধ্যা ৬টা

‘তেলের মজুদ শেষ হওয়া প্রথম দেশ’ হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন ‘তেলের মজুদ শেষ হওয়া প্রথম দেশ’ হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

‘অস্পষ্ট বিবৃতি নয়, আগ্রাসনের নিন্দা করুক বাংলাদেশ’: ইরানি রাষ্ট্রদূত

‘অস্পষ্ট বিবৃতি নয়, আগ্রাসনের নিন্দা করুক বাংলাদেশ’: ইরানি রাষ্ট্রদূত