ব্যক্তিগত উপাত্তের নিরাপত্তা জোরদার এবং আইন প্রয়োগকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অপরাধে কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও বিভাগ থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত আইনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশটি জারি করেন এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সংশোধনীতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা সিআইআই) সংক্রান্ত ডেটা সুরক্ষায় কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের ক্লাউডে সংরক্ষিত উপাত্তের অন্তত একটি সিঙ্ক্রোনাইজড রিয়াল-টাইম কপি অবশ্যই বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে। একই বিধান ‘সীমাবদ্ধ ব্যক্তিগত উপাত্ত’-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সরকারের মতে, এতে ডেটা সার্বভৌমত্ব ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এছাড়া মূল অধ্যাদেশের ৪৮ ধারায় শাস্তির কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে ‘কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে’ শাস্তির বিধান ছিল, এখন তা সংশোধন করে শুধু ‘অর্থদণ্ড’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধে অভিযুক্তদের আর কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে না; কেবল আর্থিক জরিমানাই প্রযোজ্য হবে।
সরকার বলছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে আইন প্রয়োগকে আরও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও ডেটা ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।