সর্বশেষ

ঋণের চাপে বাড়ছে আত্মহত্যা, সংকটে গ্রামীণ সমাজ

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩:২৩
ঋণের চাপে বাড়ছে আত্মহত্যা, সংকটে গ্রামীণ সমাজ
ঋণের চাপে আত্মহত্যা

বাংলাদেশে ঋণের চাপে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চড়া সুদ, কিস্তির চাপ, সামাজিক কটূক্তি এবং মানসিক অবসাদ—সব মিলিয়ে অনেক ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করছেন, যা সমাজে ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খাদ্য নিরাপত্তা পরিসংখ্যান-২০২৩ অনুযায়ী, দেশের এক-চতুর্থাংশ পরিবার মৌলিক চাহিদা পূরণে ঋণ গ্রহণ করে। শহরের তুলনায় গ্রামে এই প্রবণতা বেশি, যেখানে অধিকাংশ মানুষ এনজিও বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়। ক্ষুদ্রঋণ অনেকের জন্য আশার আলো হলেও, চড়া সুদ ও কিস্তির কঠোর নিয়মে তা অনেকের জন্য গলার ফাঁস হয়ে উঠছে।

 

সম্প্রতি আত্মহত্যার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। রাজশাহীর মিনারুল ইসলাম (৩৫) স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন। চিরকুটে লেখেন, “আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।” পিরোজপুরের ব্যবসায়ী নান্না ফরাজী (৫৫) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেন। তাঁর চিরকুটে লেখা ছিল, “দেনা শোধের কোনো পথ নাই, দুনিয়া ছেড়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই।”

 

রাজশাহীর মোহনপুরে আকবর হোসেন (৫০) নামের এক কৃষক ১১টি এনজিও ও সুদ কারবারিদের কাছ থেকে ৬-৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর ছেলে জানান, প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি গলায় ফাঁস নেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক অতনু রব্বানী বলেন, “ঋণের চাপে আত্মহত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঋণ দেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা উচিত।”

 

আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তানসেন রোজ জানান, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়া হয় উৎপাদনশীল কাজে নয়, বরং বিয়ে বা আগের ঋণ শোধে। অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ত হলে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মানুষ, কেউ আর সাহায্য করতে চায় না। তখন আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে।”

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট মোকাবেলায় দরকার মানবিক ঋণনীতি, সামাজিক সহায়তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার। অন্যথায়, ঋণের ফাঁস থেকে মুক্তি নয়, বরং আরও মৃত্যুর খবরই বাড়বে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে