সর্বশেষ

অর্থনীতি, শিক্ষা, কূটনীতি এবং বাজার

নতুন সরকারের সামনে শীর্ষ চার চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৩৪
নতুন সরকারের সামনে শীর্ষ চার চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের সামনে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন পরীক্ষা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারকে একই সঙ্গে চারটি বড় খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—অর্থনীতি, শিক্ষা, কূটনীতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ।

 

অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চাপ হচ্ছে ঋণ। অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হচ্ছে নতুন সরকারকে। বাংলাদেশ ব্যাংক, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভঙ্গুর অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সরকারকে অনেক অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানো, ঋণ ও বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা, ডলার সংকট নিরসন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।  

 

শিক্ষা খাতও বড় সংকটে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা ছাড়া পাশ, ছাত্র-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা শিক্ষাঙ্গনকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, মেধাভিত্তিক ভর্তি ও নিয়োগ, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।  

 

কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার মাঝে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শক্ত অবস্থান নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতজানু না হয়ে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।  

 

চতুর্থ বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজার নিয়ন্ত্রণ। অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের হাতে বাজার ব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অসহনীয় করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো সম্ভব নয়।  

 

নতুন সরকারের সামনে চারটি খাতই সমান গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতি, শিক্ষা, কূটনীতি ও বাজার—এই চার ক্ষেত্রে সাহসী ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলেই ‘নতুন বাংলাদেশ’ সঠিক পথে এগোবে। ভুল সিদ্ধান্ত দেশকে আবারও পুরনো সংকটে ফিরিয়ে নিতে পারে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারকে হতে হবে সতর্ক ও দৃঢ়।

সব খবর

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগের করা হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে সরকার

সরকারের অদক্ষতায় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে আওয়ামী লীগের করা হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে সরকার

বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে ১২ লাখ মানুষ, নতুন করে দরিদ্র হবেন প্রায় ১৪ লাখ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে ১২ লাখ মানুষ, নতুন করে দরিদ্র হবেন প্রায় ১৪ লাখ

ইউনূস-নূরজাহানের জবাবদিহিতা ও বিচারের দাবিতে তীব্র জনমত

টিকাদানে অবহেলায় শিশু মৃত্যুতে ক্ষোভ ইউনূস-নূরজাহানের জবাবদিহিতা ও বিচারের দাবিতে তীব্র জনমত

উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি?

বাংলাদেশে পেট্রোল-অকটেন সংকট উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি?

নতুন দামে আরও চাপে মধ্যবিত্ত

এলপিজির দামে বড় লাফ নতুন দামে আরও চাপে মধ্যবিত্ত

ব্যবসায়ীদের রাত ৮টার সিদ্ধান্তের পর সরকার নির্ধারণ করল সন্ধ্যা ৬টা

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাটের সময়সীমা আরও কমলো ব্যবসায়ীদের রাত ৮টার সিদ্ধান্তের পর সরকার নির্ধারণ করল সন্ধ্যা ৬টা

‘তেলের মজুদ শেষ হওয়া প্রথম দেশ’ হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন ‘তেলের মজুদ শেষ হওয়া প্রথম দেশ’ হওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ

‘অস্পষ্ট বিবৃতি নয়, আগ্রাসনের নিন্দা করুক বাংলাদেশ’: ইরানি রাষ্ট্রদূত

‘অস্পষ্ট বিবৃতি নয়, আগ্রাসনের নিন্দা করুক বাংলাদেশ’: ইরানি রাষ্ট্রদূত