৪৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৪৯০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের প্রায় সাত মাস পর বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়, যা শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারে ২৪৪ জন, পুলিশ ক্যাডারে ৪৮ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ৯ জন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে ২৯ জনসহ অন্যান্য ক্যাডারে প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তাকে চাকরিতে অনিচ্ছুক হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া নিয়োগ-পরবর্তী সময়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আদেশ সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
তবে নিয়োগের এ প্রজ্ঞাপন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ জুন পিএসসি ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৬৯০ জনকে সুপারিশ করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। পরে সংশোধিত তালিকায় ১ হাজার ৬৭৬ জনের নাম ছিল। কিন্তু সর্বশেষ গেজেটে নিয়োগ পেয়েছেন ১ হাজার ৪৯০ জন। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হওয়া অন্তত ১৮৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জনকারী শামীম শাহরিয়ার, যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত গেজেটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, বাদ পড়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং অন্যদেরকে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ–সংশ্লিষ্টতার নাম দিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পিএসসি বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
শামীম শাহরিয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ফল প্রকাশের সময় ঢামেক হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এমআরসিপি পার্ট-১ সম্পন্ন করেন এবং শিক্ষাজীবন শুরু করেন সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, পরে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
হঠাৎ করে বড় সংখ্যক প্রার্থী বাদ পড়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।