ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন আলাপ-আলোচনা হবে, তদন্ত হবে—কীভাবে আমরা দ্রুততম সময়ে চালু করতে পারি, সেটি নিয়েই কাজ চলছে।” তবে কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালটি চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৭ সালে। ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারের অবদান প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থায়ন এসেছে জাইকার ঋণ থেকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল, এই টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচল খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। উন্নত সুযোগ-সুবিধা, আধুনিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তখন জানানো হয়।
যদিও ৯৯ শতাংশের বেশি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবুও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিলম্ব এবং কিছু কারিগরি ত্রুটির কারণে টার্মিনালটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “আগের সময়ে কেন চালু হয়নি, সে প্রশ্ন তাদের করতে পারতেন। এখন প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন।”
নতুন টার্মিনালের ফ্লোর স্পেস ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে থাকবে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপার্চার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ডেস্ক। পুরোপুরি চালু হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। পাশাপাশি কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
একই দিন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হজ ব্যবস্থাপনা অগ্রগতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় অংশ নেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “হজযাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” সভায় উপস্থিত ছিলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
সরকার সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।