বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘোষণা দেয় বলে জানিয়েছে এবিসি নিউজ ও ব্লুমবার্গ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে সই করার ঠিক এক বছর পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ডব্লিউএইচও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এইচএইচএসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অভিযোগ কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে সংস্থাটি দেরি করেছে এবং মহামারীর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে অন্যায়ভাবে সমালোচনা করেছে। এছাড়া ডব্লিউএইচও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং চীনের মতো কিছু দেশের তুলনায় বেশি অর্থ দেওয়ার পরও সংস্থার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব পায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওতে সব ধরনের অনুদান বন্ধ করেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্থাটির কার্যালয় থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডব্লিউএইচওর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন নিয়মসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ‘ইনফেকশাস ডিজিজেস সোসাইটি অব আমেরিকা’র প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড নাহাস বলেন, “জীবাণু সীমান্ত মানে না। বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া নাগরিকদের সুরক্ষা সম্ভব নয়।”
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোয় বিশ্বজুড়ে পোলিও নির্মূল, প্রসূতি ও শিশু পুষ্টি কর্মসূচিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।