বাগেরহাটে স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পাঁচ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। বুধবার দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাতে তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কবরের কাছে শ্বশুর রুহুল আমিন হাওলাদার, শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভসহ স্বজনদের নিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন সাদ্দাম। স্ত্রী ও শিশুপুত্রের কবরের মাটি স্পর্শ করে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোনাজাতে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সাদ্দাম বলেন, “আমি একজন হতভাগা স্বামী ও বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে, তবে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমি বহুবার জামিন আবেদন করেছি, পাইনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানের লাশের বিনিময়েই আমাকে জামিন দেওয়া হলো।”
এরপর কিছু সময় তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে। সোমবার হাইকোর্ট তাঁকে ছয় মাসের জামিন দেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং ৯ মাসের ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে সাদ্দামের মুক্তির বিষয়ে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ দিনভর গণমাধ্যমকর্মীদের স্পষ্ট তথ্য দেয়নি, যা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আসিফ উদ্দীন জানান, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।