শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে মারা গেছেন ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৩৮)। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন দাসের মৃত্যু হয়। রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। পরে পারিবারিকভাবে বাড়ির উঠানেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তিলই এলাকায় খোকন দাসের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। হামলার পর তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য স্বপন গোলদার জানান, আহত অবস্থায় খোকন দাস হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, যা এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের বাবার করা মামলায় সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫) নামে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক।
নিহতের স্ত্রী সীমা দাস দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা আগে থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।