ময়মনসিংহের তারাকান্দার গ্রামে এখনও শোকের ছায়া। ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার পর তাঁর পরিবার বাকরুদ্ধ। মা শেফালি রবি দাস শোকে পাথর হয়ে গেছেন, স্ত্রী মেঘনা রবি দাস স্বামীর নাম শুনলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। আর দেড় বছরের শিশুসন্তান রিতিকা নিষ্পাপ চোখে বাবাকে খুঁজে ফিরছে—অপেক্ষায় আছে বাবার স্নেহময় আলিঙ্গনের, যা আর কখনও ফিরবে না।
দিপুর মা বলেন, “অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে। তার নামে যে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করেছে—তার বিচার ভগবান করবেন।”
স্ত্রী মেঘনা বলেন, “দিপুর সঙ্গে কারও গন্ডগোল ছিল না। কে নেবে আমার শিশুসন্তানের দায়িত্ব? আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
মেঘনার বাবা বাবুরাম দাস জানান, সুপারভাইজার থেকে ম্যানেজার পদোন্নতি পাওয়ায় সহকর্মী এরশাদ ও অনিক ক্ষুব্ধ হয়। তারা বলেছিল, “হিন্দু, ছোট জাতের ছেলেকে স্যার বলতে হবে—এটা মানা যায় না।” এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার পর দিপুকে মারধর করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তারাকান্দা গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, দিপু শান্ত ও নিরীহ ছেলে ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়নি। গ্রামের মানুষ হত্যার বিচার দাবি করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকার চেক দিয়েছেন। খাদ্যসামগ্রী, বিধবা কার্ড, প্রতিবন্ধী কার্ড এবং একটি ঘর তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দিপুর স্ত্রীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ধর্ম নিয়ে কথা কাটাকাটির পর এরশাদ ও অনিক দিপুকে মারধর করে বাইরে নিয়ে যায়। পরে আরও লোক এসে তাঁকে নির্যাতন করে। পাশের দোকানদার বলেন, “দিপু দা ভালো লোক ছিল। আমার দোকানে চা খেতেন।”
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দিপুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত দিপু পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। তাঁর ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।