সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সংস্থার গভীর উদ্বেগ

ইউনূস সরকারের অধীনে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৩
ইউনূস সরকারের অধীনে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েছে

মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—এমন গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সংস্থা। কানাডাভিত্তিক গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) জানিয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ৮৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকেরা।

 

জিসিডিজি-এর অভিযোগ, ‘অনির্বাচিত’ ইউনূস সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও বাড়ছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সরকারের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমের কারণে এসব ঘটনার বড় একটি অংশ হয় প্রকাশই পাচ্ছে না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়া হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধান বা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গেলে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, চাকরিচ্যুতি, প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল এবং এমনকি সংবাদকক্ষে হামলার মতো গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনও পরে চাপের মুখে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে—যাকে জিসিডিজি ‘ভয়ের মাধ্যমে সত্য মুছে ফেলা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

 

সংস্থাটি আরও বলেছে, জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত হচ্ছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলোকে উপেক্ষা বা অস্বীকার করা হচ্ছে। জিসিডিজি জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত হতে হবে এবং পদমর্যাদা নির্বিশেষে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি অবসানের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

এর আগে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে ‘মব সন্ত্রাস’ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৯৭ জন মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন, যেখানে আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১২৮। আসক-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ইউনূস সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অন্তত ২৯৩ জন মব সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন।

 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও গণমাধ্যম দমন—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর মানবাধিকার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সতর্ক করেছে জিসিডিজি।

সব খবর

আরও পড়ুন

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আসকের তীব্র উদ্বেগ

জানুয়ারিতে ৭৫ সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৬১৬ নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে আসকের তীব্র উদ্বেগ

ইউনূস আমলে ৬০০ রাজনৈতিক সহিংসতা, ‘৯২ শতাংশ ঘটনায় বিএনপি সম্পৃক্ত’

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে ৬০০ রাজনৈতিক সহিংসতা, ‘৯২ শতাংশ ঘটনায় বিএনপি সম্পৃক্ত’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নাগরিক প্রতিনিধিদল, নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি

রাউজানে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নাগরিক প্রতিনিধিদল, নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি

জানুয়ারিতে মব সন্ত্রাসে নিহত ২১, বেড়েছে অজ্ঞাত লাশ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্বেগ জানুয়ারিতে মব সন্ত্রাসে নিহত ২১, বেড়েছে অজ্ঞাত লাশ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন

মিরসরাইয়ে হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন, আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন মিরসরাইয়ে হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন, আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

‘স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো’

কবর জিয়ারত শেষে সাদ্দাম ‘স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো’

নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান

ইউনূসকে অ্যামনেস্টি সেক্রেটারি জেনারেলের চিঠি নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকার সুরক্ষার আহ্বান

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

৩৯ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা ও তদন্তের দাবি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা