বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে নয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার জোট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে তারা এই আহ্বান জানান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের সামনে নানা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ থাকলেও এটিই মানবাধিকার সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সংস্থাগুলোর মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে একটি স্বাধীন ও ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো তার সরকারের দেওয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি এবং এর আগে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কিছু উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করে, অতীতে গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে।
চিঠিতে দেশে বিদ্যমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশে এখনো খেয়ালখুশিমতো আটক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ এবং সাংবাদিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটছে। গণপিটুনি বা মব সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে অবস্থানরত প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবাধিকার সুরক্ষাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে তারা জীবিকা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার সীমিত সুযোগের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নতুন সরকারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার দায়িত্বকালকে মানবাধিকার সংস্কার ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা বাংলাদেশের সব মানুষের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই যৌথ আহ্বানে সই করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), সিভিকাস, এফআইডিএইচ, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।