বান্দরবানের আলীকদমে ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা এবং খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি আদিবাসীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কুর্নিকোভা চাকমা। তিনি বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি আলীকদমে একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ও সেটেলার বাঙালিদের হামলায় ১৮ জনের বেশি ম্রো আদিবাসী গুরুতর আহত হন। ঘটনার আগে ও পরে পুলিশ প্রশাসনের বিভ্রান্তিকর ও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির কমলছড়ি এলাকায় সেটেলারদের হামলায় তিনজন পাহাড়ি আদিবাসী আহত হন, যাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এসব ঘটনা পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের ভূমি সংকট, সেটেলার আগ্রাসন, বিচারহীনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তৎপরতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগরের সভাপতি কনেজ চাকমা বলেন, কার্যকর বিচার ব্যবস্থা না থাকায় পাহাড় ও সমতলে আদিবাসীদের ওপর বারবার হামলা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বিভিন্ন কৌশলে আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্রো জনগোষ্ঠীর ছবি ব্যবহার করে গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও আজ সেই জনগোষ্ঠী হামলার শিকার। অথচ হামলাকারীদের বিচারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনে আদিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান সময়ে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই আদিবাসীদের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা, উচ্ছেদ ও জমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
সমাবেশে মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি জানায়। বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পাহাড়ি আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।