ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেই সামনে এসেছে নারী প্রতিনিধিত্বে বড় ধরনের পতনের চিত্র। এবারের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জিতেছেন মাত্র ৭ জন নারী প্রার্থী, যা আগের সংসদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে। কিন্তু নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলটির সাফল্য সীমিত। বিজয়ীদের মধ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ছয়জন নারী, আর একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
নির্বাচিত নারী প্রার্থীরা হলেন— মানিকগঞ্জ-৩ এ আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ এ ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ এ তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ এ শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ এ নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ এ ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ রুমিন ফারহানা।
তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ১৯ জন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৭-এ, অর্থাৎ প্রায় ৬৩ শতাংশ হ্রাস। এক নির্বাচনী ব্যবধানে ১২টি আসন কমে যাওয়া বিষয়টি রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন কম পাওয়া, নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ধরন, প্রচারণা কৌশল এবং অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা নারী প্রার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হতে পারে। যদিও সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদে নারীর মোট সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে, তবুও সরাসরি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধির সংখ্যা কমে যাওয়া রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নেতিবাচক বার্তা দেয়।