খসড়া ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ ও ‘সম্প্রচার কমিশন’ অধ্যাদেশকে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার পরিপন্থী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সংস্কার দাবি উপেক্ষা করে সরকার তড়িঘড়ি করে এমন দুটি নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো আনতে চাইছে, যা গণমাধ্যম খাতে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব আরও বাড়াবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রায় ১০ মাস আগে একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশ করলেও সরকার তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। বরং মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
টিআইবির ভাষ্য, প্রস্তাবিত কমিশনগুলোর গঠন, কমিশনারদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সরকারের, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে কমিশনগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের কাঠামো মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে সহায়ক নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ জোরদারের হাতিয়ার হতে পারে।” তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদজুড়ে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় চাপ, নিয়ন্ত্রণ ও সহিংসতা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা ছিল দৃশ্যমান। নতুন খসড়াতেও একই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
টিআইবি আরও বলেছে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে মতামত আহ্বান করা জনসম্পৃক্ততা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং এটি এক ধরনের ‘অন্তর্ঘাতমূলক তড়িঘড়ি’ পদক্ষেপ। বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি স্বাধীন, একক ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত কমিশন গঠনের সুপারিশই ছিল সময়োপযোগী সমাধান।
খসড়া দুটি দ্রুত অধ্যাদেশে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, নতুন সংসদ গঠনের পর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা উচিত। অন্যথায় দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত উৎকর্ষ আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।