সর্বশেষ

প্রথম আলো–ডেইলি স্টার–ছায়ানটে হামলা সরকারের কোনো না কোনো অংশ ঘটতে দিয়েছে: নূরুল কবীর

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩০
প্রথম আলো–ডেইলি স্টার–ছায়ানটে হামলা সরকারের কোনো না কোনো অংশ ঘটতে দিয়েছে: নূরুল কবীর

দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরকারের কোনো না কোনো অংশের নিষ্ক্রিয়তা বা মদদ ছাড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এসব হামলার বিষয়ে আগেই প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবু সরকার তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নূরুল কবীর এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

 

নূরুল কবীর বলেন, “পরিষ্কারভাবে আমরা জানি—প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য একদিন, দুই দিন আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কারা এই ঘোষণা দিয়েছে, তা দেশের মানুষ জানে, সরকারও জানে। বাংলাদেশের যেকোনো আইনে এটি ফৌজদারি অপরাধ। অথচ আগেই প্রতিরোধ করার জন্য সরকার তাদের গ্রেপ্তার করেনি।”

 

তিনি আরও বলেন, “যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলা হয়—এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হবে, আর তারপর সংগঠিতভাবে হামলা হয়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—সরকারের কোনো না কোনো অংশ এই ঘটনাগুলো ঘটতে দিয়েছে। ইতিমধ্যে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ও স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে।”

 

উল্লেখ্য, ১৮ ডিসেম্বর রাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত হামলার শিকার হয় দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো। ওই রাতে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়, যার ফলে কার্যালয়ের একটি বড় অংশ ভস্মীভূত হয়ে যায়। একই রাতে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংহতি জানাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গেলে নূরুল কবীর নিজেও হেনস্তার শিকার হন।

 

এই ঘটনাগুলোকে দেশের গণমাধ্যমের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

 

বিজেসির ষষ্ঠ সম্প্রচার সম্মেলনে সাংবাদিক শাহনাজ শারমিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিজেসির উপদেষ্টা খায়রুল আনোয়ার, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজেসির ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি মো. আল মামুনসহ অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সব খবর

আরও পড়ুন

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইন্টিনের সতর্কবার্তা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

টিআইবি’র বিবৃতি গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

ঢাকায় ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারের আহ্বান ঢাকায় ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত

গণমাধ্যম সম্মিলনে ঐক্যের ডাক, সাংবাদিক সুরক্ষার জোরালো দাবি

গণমাধ্যম সম্মিলনে ঐক্যের ডাক, সাংবাদিক সুরক্ষার জোরালো দাবি