রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া ক্যানিকে (৩৫) দুই দফায় মারধর করে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন মো. জোবায়ের হোসেন পাপ্পু (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আরও সাত থেকে আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ ডিসেম্বর রাতে নাঈম কিবরিয়া তার প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার গাড়ির ধাক্কা লাগে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন যুবক নাঈমকে মারধর করেন। এরপর আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়ক থেকে তার প্রাইভেটকার ধাওয়া করে ৭ নম্বর সড়কের মুখে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ির গতিরোধ করা হয়। নাঈম গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাপ্পুসহ পাঁচ থেকে ছয়জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এটিই ছিল প্রথম দফার মারধর।

পরে আহত নাঈমকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আবার আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও সাত থেকে আটজন যোগ দিয়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে নাঈমকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২ জানুয়ারি নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক জানান, প্রাথমিক তদন্তে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের মধ্যে পূর্বপরিচয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে নিহতের স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম জানান, মৃত্যুর আগে নাঈমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তারা ঘটনাটিকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনার জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে মানতে নারাজ।