যশোরে অপরাধ কর্মকাণ্ড ও খুনোখুনি বেড়েছে। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত এক বছরে জেলায় মোট ৬২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় পিস্তল, ছুরি, চাকু ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬২টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও পরকীয়ার জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ বলছে, অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
আলোচিত কয়েকটি ঘটনা:
গত ২২ মে অভয়নগরে কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় মাতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ হয়।
৯ জুন জমি নিয়ে বিরোধে সদর উপজেলায় মইন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে চৌগাছায় ভাইয়ের হাতে ভাই নিহত হন।
১৪ জুন অভয়নগরে কুয়েত প্রবাসী হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই রাতে শার্শায় রাজনৈতিক বিরোধে বিএনপি কর্মী লিটন হোসেন নিহত হন।
ঈদের দিন শার্শায় ককটেল বিস্ফোরণে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই নিহত হন। একই দিনে ঝিকরগাছায় ১০ বছরের শিশু সোহানাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
৯ জুলাই বাঘারপাড়ায় গৃহবধূ সুচিত্রা সেন দেবনাথের লাশ বাক্স থেকে উদ্ধার হয়, হত্যায় তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়।
৬ ডিসেম্বর তানভীর হোসেন নামে এক যুবক খুন হন, তার পকেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যশোর শহরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৫ জানুয়ারি মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। শহরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুন হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।”
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, “৬২টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অধিকাংশ ঘটনার মোটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। আলমগীর হোসেন হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। রানা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে, জড়িতদের অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।”