আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর শঙ্কা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির মতে, জীবন, জীবিকা, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটদানে নিরুৎসাহিত হওয়ার দায় সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৪২টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, বিশেষ করে নারীরা চরম ভীতির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না এবং অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণার প্রচেষ্টাকে পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দেয় ঐক্য পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের সংবিধান আজ গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাস্তবতায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাত দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপদে ভোটদানের নিশ্চয়তা, নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ও সেনা মোতায়েন, নিয়মিত মনিটরিং সেল গঠন এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।