শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম ও বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম মাঠ দখল করে রাখে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ধাওয়া খেয়ে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশ্রয় নেন। পরে সংঘর্ষ বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, ঝিনাইগাতী ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আমজাদ হোসেন এবং উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজা মিয়া।
বিএনপির অভিযোগ, জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে রড-লাঠিসোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান বলেন, “জামায়াত ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনে জিততে চায়। এভাবে বিএনপিকে মাঠ থেকে সরানো যাবে না।”
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পারছেন না, কারণ সেখানে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে।”
শেরপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “বিএনপি সমর্থকরা দেশি অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা করেছে। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম মারা যান। এ ঘটনায় প্রার্থীসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো মামলা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য চত্বরে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।