ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জামায়াত নেতার ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের প্রতিবাদে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদরের আবু সাইদ চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে নিয়ে এমন অশোভন মন্তব্য শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ইউনুচ আলী রাহুল বলেন, “বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রভাগে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ওই জামায়াত নেতার রুচির পরিচয় দেয়। তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর বাবা সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, “আমার মেয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ওই নেতার নৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠে।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতা শামীম আহসান এই মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে শামীম আহসানকে বলতে শোনা যায়, “ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডা, ছিল বেশ্যাখানা, সেটি ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে শামীম আহসান বলেন, তিনি “মুখ ফসকে” কথাটি বলে ফেলেছেন এবং ইতোমধ্যে ফেসবুকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তবে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়, এর আইনগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন।