সর্বশেষ

রাজনৈতিক ব্যঙ্গ

দেশ চালনা ও ইউসুফ সাবের কাঁথা ভেজানো কাহিনী

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০
দেশ চালনা ও ইউসুফ সাবের কাঁথা ভেজানো কাহিনী

দেশ চালানো কি ছেলেখেলা? না ভাই, এইটা একখানা মহাকাব্যিক কর্মযজ্ঞ। সাধারণ জনগণ ভাবেন, সরকার মানেই পুকুরে মাছ—জাল ফেলিলেই উঠিবে। কিন্তু ইউসুফ সাব জানেন, এই মাছ ধরিবার জন্য জাল নয়, চাই ভাই, বন্ধু, ভাইস্তা, ভাস্তি—নিজস্ব লোক। কারণ দেশ চালনা মানে আত্মীয়তার রোল কল।

 

ইউসুফ সাব যখন মন্ত্রিত্বের চেয়ারে বসিলেন, তখনই বুঝিলেন—দেশ চালাইতে গেলে চালাক লোক লাগিবে আর চালাক লোক মানেই নিজের লোক। তাই তিনি শুরু করিলেন নিয়োগ উৎসব। এক ভাইস্তা তথ্য মন্ত্রণালয়ে, এক ভাস্তি পরিবহন বিভাগে, এক বন্ধু দুর্নীতি দমন কমিশনে—সবাই মিলিয়া দেশ চালাইতেছেন, যেন একখানা পারিবারিক নাট্যদল।
 

মানুষের ভালোর জন্য সরকার “হ্যাঁ” ভোট দিল। জনগণ বুঝিল “না”। এখন সেই “হ্যাঁ” ভোটের ঢোল সরকারকেই বাজাইতে হইতেছে। ঢোলের শব্দ যেন জনগণের কানে যায়, তাই সরকার নিজেই ঢোল ফাটাইয়া, নিজেই মেরামত করিতেছে। ইউসুফ সাব বলিতেছেন, “এই ঢোল ফাটানোই তো আসল দেশপ্রেম।”

 

জনগণ আসলে নির্বোধ। তাহারা নিজের ভালোটাও বুঝে না। সরকার বলিতেছে, “আমরা তোমাদের জন্য টাকা কামাইতেছি।” জনগণ বলিতেছে, “তোমরা নিজেদের জন্য কামাইতেছ।” এই ভুল বোঝাবুঝির জন্যই ইউসুফ সাবের সাঙ্গোপাঙ্গো প্রতিদিন তিনবার প্রেস ব্রিফিং দেন, পাঁচবার ফেসবুক লাইভে আসেন আর সাতবার নিজেদের মুখে বলেন, “আমরা জনগণের জন্যই কামাইতেছি।”

 

সরকারের টাকা থাকলেই জনগণের ভাগ্যোন্নতি। তাই ইউসুফ সরকার সমানে কামাইতেছেন। কে কোথায় কীভাবে কামাইতেছে, তাহা জানিবার প্রয়োজন নাই। শুধু জানিবে, কামাই হইতেছে। যদি পাঁচ বছরের গ্যারান্টি থাকিত, তাহা হইলে এত হুড়াহুড়ি লাগিত না। এখন তো সময় কম, কামাই বেশি। কখন টাকা কামাইবে, কখন কাজ করিবে—এই একখানা বিপদ।

 

এরই মধ্যে ঘুমের মধ্যে হাসিনা স্বপ্নে আইসা বলিয়াছেন, “সাবধান!” ইউসুফ সাব ঘুম ভাঙিয়া ভাবিলেন, “এই সাবধান কথাটার মানে কী?” তিনি ভাবিলেন, হয়তো বাজেট সাবধান, হয়তো জনগণ সাবধান, হয়তো ভাইস্তা সাবধান। কিন্তু কে সাবধান, তাহা বুঝিতে না পারিয়া তিনি শীতের মধ্যে কাঁথা ভিজাইয়া গোসল করিলেন। কারণ, স্বপ্নে সাবধান শুনিলে গোসল করাই উত্তম।

 

একটা বয়ষ্ক মানুষের জন্য কারো দিলে রহম নাই। ইউসুফ সাব বলিতেছেন, “আমি তো দেশের জন্য জীবন দিতেছি, অথচ জনগণ আমার কাঁথা ভেজা দেখে হাসে।” তিনি বলিতেছেন, “এই দেশের মানুষ শুধু হাসে, কাঁদে না। আর সরকার শুধু কাঁদে, হাসে না।”

 

তাহার দপ্তরে এখন নতুন একখানা নীতিমালা তৈরী হইতেছে—“নিজস্ব লোক দ্বারা দেশ চালনা আইন ২০২৬।” এই আইনে বলা হইবে, “সরকারি পদে নিয়োগ পাইবে শুধু তাহারা, যাহারা ইউসুফ সাবের কাঁথা ভেজানো কাহিনী বিশ্বাস করে।” এই আইন পাশ হইলে, দেশ চালনা আরও সহজ হইবে। কারণ, তখন আর জনগণ প্রশ্ন করিবে না, শুধু কাঁথা ভেজাইবে।

 

তাই আসুন, আমরা ইউসুফ সাবের কষ্ট বুঝি। তিনি শুধু সরকার চালান না, তিনি জনগণের ভুল বোঝাবুঝিও চালান। তিনি শুধু টাকা কামান না, তিনি ঢোলও বাজান। তিনি শুধু ভাইস্তা নিয়োগ দেন না, তিনি স্বপ্নেও সাবধান হন। তিনি শুধু গোসল করেন না, তিনি গোসলের মাধ্যমে দেশ শুদ্ধ করেন।

 

এই দেশ চালনা একখানা সাধনার বিষয়। আর ইউসুফ সাব সেই সাধক, যিনি কাঁথা ভেজাইয়া, ঢোল বাজাইয়া, ভাইস্তা নিয়োগ দিয়া, জনগণের নির্বুদ্ধিতার মধ্যেও দেশ চালাইতেছেন। তাঁহার জন্য আমাদের হৃদয় হইতে একখানা জান্নাতি ফুল উত্সর্গ করাই উচিত।

 

লেখক: এক ক্লান্ত পেনসিল, অসহায় নির্যাতিতের আর্তবেদন

সব খবর