সর্বশেষ

রাজনৈতিক ব্যঙ্গ

ডিমের পিঠে পাটোয়ারী যায়: একখানা পিঠাকাব্য

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০
ডিমের পিঠে পাটোয়ারী যায়: একখানা পিঠাকাব্য

বাংলাদেশে সংস্কৃতি মানে পরিবর্তন। পূর্বে ছিল ফুল ছুঁড়িয়া অতিথি বরণ, পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টেঁটা ছুঁড়িয়া প্রতিপক্ষ বরণ, ইরানে মিসাইল ছুঁড়িয়া ক্ষেপনাস্ত্র বরণ। আর এখন? এখন পিঠা উৎসবে ডিম ছুঁড়িয়া প্রার্থী বরণ! এই হইল বাংলাদেশের নতুন সংস্কৃতি যাহা ইউনেস্কো-র তালিকায় না উঠিলেও ইউসুফ সাবের তালিকায় উঠিয়াছে।

 

পিঠা উৎসব মানে আগে ছিল নারকেল, গুড়, চালের গুঁড়া। এখন তাহা হইল ডিম, কুসুম, প্রার্থী। অতিথি আসিবেন, তাঁহার গায়ে ছুঁড়িয়া দেওয়া হইবে ডিমের পিঠা। যাহা আগে ছিল মুখে, এখন তাহা গায়ে। এই হইল অতিথি পরায়ণতার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা।

 

এই ছোঁড়াছুঁড়ির ফলে দেশের চিন্তাশীল নাগরিকেরা ভাবিতে শুরু করিয়াছেন নতুন উৎসব আয়োজনের আইডিয়া। যেমন, ভোট উৎসব। ভোটারগণ লাইনে দাঁড়াইবেন, প্রার্থীগণ দাঁড়াইবেন গায়ে পলিথিন জড়াইয়া। ভোটারগণ একে একে ডিম ছুঁড়িবেন। দিন শেষে যাহার গায়ে সর্বাধিক কুসুম, তাহারই বিজয়ী। গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞাম, “ডিমে যাহার দাগ, তাহারেই ভোট ভাগ।”

 

এই উৎসবে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হইবে। কীভাবে? শুনুনঃ

 

- পোল্ট্রি ব্যবসায়ীরা ডিম সাপ্লাই দিয়া আখের গোছাইবেন।
- পরিবহন মালিক সমিতি ডিম পরিবহনে লাভবান হইবেন।
- মুরগী যেহেতু ডিম দেয়, তাহার বাম্পার ফলন নিশ্চিত করিতে হইবে।
- মুরগী পালনে লাগিবে খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ওয়াসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
- কৃষি মন্ত্রণালয় বলিবে, “ডিমই উন্নয়ন।”
- শিল্প মন্ত্রণালয় বলিবে, “ডিমে শিল্প।”
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলিবে, “ডিমে জ্ঞান।”
- শ্রমবাজার বলিবে, “ডিমে কর্মসংস্থান।”

 

এইভাবে সরকার বাহাদুরের এক সিদ্ধান্তে বদলাইতে পারে দেশের চালচিত্র। আর এই চিত্রের ঐতিহাসিক নায়ক আমাদের পাটোয়ারী। যিনি পিঠা উৎসবে ডিম দ্বার বরিত হইলেন। তাঁহার গায়ে যেই ডিম লাগিল, সেই ডিমে জাতি জাগিল।

 

ভবিষ্যতে তাঁহাকে লইয়া রচিত হইবে অমর গাঁথা, “উদ্ভট ডিমের পিঠে পাটোয়ারী যায়”। এই মহাকাব্যে থাকিবেঃ

 

- প্রথম অধ্যায়ঃ ডিমের আহ্বান
- দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ কুসুমের কাব্য
- তৃতীয় অধ্যায়ঃ পিঠার প্রতিশোধ
- চতুর্থ অধ্যায়ঃ ভোটের ভেজাল
- পঞ্চম অধ্যায়ঃ পাটোয়ারীর পুণ্য

 

এই গাঁথা পড়িয়া শিশুরা বলিবে, “আমরা বড় হইয়া ডিম ছুঁড়িব।” তরুণেরা বলিবে, “আমরা প্রেমে ডিম ছুঁড়িব।” বৃদ্ধেরা বলিবে, “আমরা স্মৃতিতে ডিম ছুঁড়িব।” আর সরকার বলিবে, “আমরা উন্নয়নে ডিম ছুঁড়িব।”

 

তাহা হইলে প্রশ্ন, এই ডিমের উৎস কোথায়? উত্তরঃ মুরগী। তাহা হইলে মুরগীর উৎস কোথায়? উত্তরঃ সরকার। তাহা হইলে সরকারের উৎস কোথায়? উত্তরঃ ডিম। এইভাবে আমরা বুঝিতে পারি, ডিমই সরকার, সরকারই ডিম।

 

তাই আসুন, আমরা পিঠা উৎসবকে জাতীয় উৎসবে রূপান্তর করি। আমরা ডিম ছুঁড়ি, কুসুম গুনিয়া ভোট দিই, পাটোয়ারীকে পিঠা দিই আর ইতিহাসে লিখি, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানে ডিমতন্ত্র।”

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল; রঙ্গ ভরা বঙ্গদেশে সং সেজে আছি

সব খবর